নিজস্ব প্রতিবেদক:
নিজ মাকে খুন করার মতো নাটকীয় ছক আঁকেন শেফালী আক্তার। মাকে খুন করার জন্য এর আগেই সোহেল রানা নামে এক যুবকের সঙ্গে এক লাখ টাকার চুক্তি করেন শেফালী। বৃদ্ধা মা মিনারা বেগমকে কীভাবে হত্যা করেছেন তা এরই মধ্যে জবানবন্দিতে বলেছেন।
বৃহস্পতিবার রাতে তাদের আদালতে হাজির করা হলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের ভিটিপাড়া এলাকায় সম্প্রতি ওই নারীকে খুনের ঘটনার বর্ণনা এভাবেই আদালতে দিয়েছে দুই ঘাতক।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে দুই আসামি জানান, চাচার বাসায় বেড়ানোর কথা বলে বৃদ্ধা মা মিনারা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয় শেফালী আক্তার। বাড়ি থেকে মিনারাকে সরাসরি নিয়ে যাওয়া হয় জনমানবশূন্য এক স্থানে। নেয়ার পথেই তাকে পানীয়র সঙ্গে খাওয়ানো হয় ঘুমের ওষুধ। এর কিছুক্ষণ পর শেফালী তার মায়ের মাথায় আঘাত করে। এতে তিনি লুটিয়ে পড়েন মাটিতে। পরে শেফালী তার মায়ের বুকের ওপর বসে মাথা চেপে ধরে আর ভাড়াটে খুনি সোহেল রানা ছুরি চালায় গলায়।
মিনারা বেগমের স্বামী মারা যায় শেফালী জন্মের ৫-৬ বছর পর। একমাত্র সন্তান শেফালীর সুখের জন্য আর সংসারই গড়েননি তিনি। স্বামীর রেখে যাওয়া ১২ শতাংশ জমিতে ঘর তৈরি করে বসবাস করতে থাকেন। শেফালীকে বছর বিশেক আগে বিয়ে দেওয়া হয়। তার তিনটি সন্তানও রয়েছে।
পুলিশ জানায়, মিনারার এক ভাই একটি হত্যা মামলায় আসামি হয়। নিজের দুটি গরু বিক্রি করে মামলা পরিচালনার জন্য ভাইকে টাকা দিতে চেয়েছিলেন মিনারা। আর এটাই কাল হয় তার। গরু বিক্রি করে টাকা না দেওয়ার জন্য মাকে নিষেধ করে শেফালী। এ নিয়ে মা-মেয়ের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে। এক পর্যায়ে মায়ের ওই সম্পত্তি ও গরুগুলো নিজের দখলে নিতেই হত্যার পরিকল্পনা করে সে।
কালিয়াকৈর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আজমীর হোসেন বলেন, হত্যার শিকার মিনারার বাড়ি থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে মান্নানের টেকের ঝোপে এক নারীর গলাকাটা লাশ পাওয়া যায়। নিহত মিনারা শ্রীপুর উপজেলার কেওয়া পূর্বখণ্ড গ্রামের আবু তাহেরের স্ত্রী। প্রধান আসামি শেফালী মিনারা বেগমের দ্বিতীয় মেয়ে।
Leave a Reply